এক নাদান মুসাফিরের আত্মলিপি (পর্ব-৬)


এক নাদান মুসাফিরের আত্মলিপি (পর্ব-৬)

কেনো জানি আমি নিজেকে চুপ রাখতে পারছি না। এক্ষেত্রে চুপ থাকতে না পারার মাঝে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি রয়েছে। এতে করে অন্তত মনের কথাগুলো ও নিজের ভাবনাগুলো প্রকাশ করতে পারি যা অনেকটাই অপ্রকাশিত ছিল। এদেশে কখন যে কে কি কথা বলছে বা কি উদ্দেশ্যে কথা বলছে তা বোঝা মুশকিল। হয় আমরা দলের স্বাথে কথা বলি কিংবা কোনো গোষ্ঠীর মুখপাত্র হয়ে কথা বলি। আর এজন্য একপেশে কথাগুলো আমাকে কখনো পোড়ায়, কখনো ভীষণ যন্ত্রণা দেয়। এসব অন্ধলিপি থেকে আমাকে দূরে থাকতে হয়। সঙ্গত কারণে, আজকের আলোচনার বিষয় এক নাদান মুসাফিরের আত্মলিপি (পর্ব-৬) ‘অসম্পূর্ণ দেশপ্রেম ও আমাদের শালীনতা বোধ’ শিরোনামে।

 

 

অসম্পূর্ণ দেশপ্রেম আমাদের শালীনতা বোধ

বাঙালী বীরের জাতি এটা যখন ভাবি তখন খুব গর্ববোধ হয়, আবার বুদ্ধিজীবি বলে পরিচিত কারো খন্ডিত ও একপেশে ভাবনা প্রকাশ পায় তখন নিজের গালে কেউ যেনো চপেটাঘাত করে। অপরের মতামতকে আমরা সহ্য করতে পারি না কিছুতেই, অকস্মাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ি, বেমালুম ভুলে যাই নিজেদের পরিচয় এবং নিমেষে ছাড়িয়ে যায় শালীনতাবোধ। এখানে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ কিংবা জয় বাংলার তেমন ফারাক দেখি না। ফারাক তো আমাদের মনে, আমাদের চিন্তায়। আমি নিজেকে এতোটা গন্ডমূর্খ ভাবি কেমনে? আমাদের শ্রদ্ধাবোধ কোথায়?

 

সম্প্রতি একটি লেখা এক নজর লক্ষ্য করি-

পদ্মা ব্রিজ দিয়ে কী হবে? এই শিরোনামে

মুহম্মদ জাফর ইকবাল প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৭, ০২:৩৫:১৫ দৈনিক যুগান্তর “আসলে দেশ কেমন চলছে সেটি বের করা খুবই সহজ। দেশের একজন সংখ্যালঘু মানুষকে নিরিবিলি জিজ্ঞেস করবেন, ‘দেশটি কেমন চলছে?’ সেই মানুষটি যদি বলে, ‘দেশ ভালো চলছে’, তাহলে বুঝতে হবে দেশটি ভালো চলছে। আর সেই মানুষটি যদি ম্লান মুখে মাথা নেড়ে বলে, ‘দেশটি ভালো চলছে না,’ তাহলে বুঝতে হবে দেশটি আসলেই ভালো চলছে না। দেশে দশটা পদ্মা সেতু, এক ডজন স্যাটেলাইট আর দশ হাজার ডলার পার ক্যাপিটা আয় হলেও যদি সংখ্যালঘু মানুষটি বলে দেশ ভালো নেই, তাহলে বুঝতে হবে আসলেই দেশ ভালো নেই” আরো বিস্তারিত- http://www.jugantor.com/online/opinion/2017/06/16/49709/পদ্মা-ব্রিজ-দিয়ে-কী-হবে?

 

দেশটি কেমন চলছে ওনি তার কি চমৎকার দেখা যায় তত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন, এখানে ওনি মানে জাফর ইকবাল স্যার! আমি তো এরকম তত্ত্বে নির্বাক হয়ে গেছি। তাই বলে নিজেকে বাক প্রতিবন্ধী ভাববো? মোটেও না। ভাবাটাই অন্যায়।

 

প্রযুক্তিকে অবজ্ঞা করা তেমন শোভনীয় কিছু না, অহংকারের কিছু না। যমুনা বা বঙ্গবন্ধু সেতু মানে এটা আমাদের দেশের সম্পদ ও দেশের উন্নয়ন, তেমনি পদ্মা সেতু মানে এটা আমাদের দেশের সম্পদ ও দেশের উন্নয়ন। এতুটুকু বুঝতে না পারলে কেমনে আমি বুদ্ধিজীবি হই? নিজের ভালো তো পাগলে বোঝে তাই না! সারাদিন প্রযুক্তি নিয়ে ভাবি অথচ প্রযুক্তিকে অবজ্ঞা করি এ কেমন ধৃষ্টতা আমার? প্রযুক্তিকে অবজ্ঞা করলে কি দেশপ্রেম জাগ্রত হয়? হায়রে দেশপ্রেম, এ কেমন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা??

 

সংখ্যালঘুর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তাই বলে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশে সংখ্যালঘুর অধিকার থাকবে না এটা ভাবতে অবাক লাগে। তাই বলে এটাকে একটি দেশের ভালো থাকার মাপকাঠি বলে বিবেচিত হতে পারে না। অথচ তিনি সারাবিশ্বে যখন মুসলিম নির্যাতিত হয় তখন তিনি উচ্চকিত ও সরব থাকেন না কেনো, তার সংখ্যালঘু তত্ত্ব কোথায় থাকে? পার্শ্ববর্তী দেশে যখন মুসলমানদের উপর নির্যাতন তখন তিনি কি করেন? জাফর ইকবাল স্যার বলবেন আপনি কিভাবে এসময় ঘুমিয়ে থাকেন?

 

যখন প্রযুক্তিতে দেশের উন্নয়ন সাধিত হয় তাকে সাধুবাদ জানাতে ভুল করবো না। এতো সংকীর্ণতা আমাকে গ্রাস করেনি। আমার দৃষ্টিভংগী আমাকে এতোটা অন্ধ করেনি।

 

একজন দেশপ্রেমিক হওয়ার জন্য বুদ্ধিজীবি হওয়ার প্রয়োজন নেই, নেতা হওয়ার প্রয়োজন নেই, রাজনৈতিক কর্মী হওয়ার প্রয়োজন নেই, মৌসুমি বুজর্গ হওয়ার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন দেশের প্রতি দরদ ও মমতা, সেটা থাকতে পারে খেটে খাওয়া একজন রিকশাওয়ালার মাঝে, একজন গার্মন্টেস শ্রমিক ও সাধারন আম-জনতার মাঝে অকপটচিত্তে।

 

অন্যদিকে আরেকটি বিষয় চিন্তায় আনি, অন্যের স্বাধীনতায় আমি হস্তক্ষেপ করতে পারি না। পছন্দ না হলে অন্যের মতামতে বাধা দিবো, এটা কেমন কথা? অতি উৎসাহীরা কিভাবে আমাদের মাঝে বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছে আমরা টের পাই না। বরং গদগদ চিত্তে পুলকিত হই এই ভেবে যে ভালোই হয়েছে প্রতিপক্ষের উপর।

 

সম্প্রতি আর একটি রিপোর্ট লক্ষ্য করি-

“গতকাল রোববার পাহাড় ধসে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ দিতে গিয়ে রাঙামাটিতে হামলার শিকার হয় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদল। এতে মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দলের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আহত হন ।” আরো বিস্তারিত- http://www.somoyerkonthosor.com/2017/06/19/144779.htm

 

বেশ তো আমাদের শালীনতা বোধ ও স্বাধীনতার চেতনা আকাশ ছোঁয়া! সেই আকাশে ভাসতে ভাসতে একসময় মাটিতে আছরে পরতে হয়। এটাই নিয়তির বিধান।

 

কোনোকিছুর অতিরিক্ত প্রেম আমাদের সিক্ত করতে পারে না, আমাদের মহান জজবায় ভাবাপ্লুত করে শুধু, তখন বুঝতে হবে কোথায় যেনো গলদ রযেছে। এজন্য শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন হয় না। সেটা দেশপ্রেম হোক, আর স্বাধীনতার চেতনা কিংবা শালীনতা বোধ সবকিছুতে থাকতে হবে নচেৎ সবকিছুই যেনো বৃথা পন্ডশ্রম।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>