এক নাদান মুসাফিরের আত্মলিপি (পর্ব-৩)


এক নাদান মুসাফিরের আত্মলিপি (পর্ব-৩)

বেশ কিছুদিন পরে আপনাদের মাঝে হাজির হলাম অনেকটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও। সবার প্রতি এক প্রকার ভালোবাসার টানে আমার এ লেখার সূত্রপাত। আমি নিজেও কিছু বিষয় অনুধাবন করেছি এবং নিজেকে পরিশোধন করার চেষ্টা করে থাকি। আজকের আলোচনার বিষয় এক নাদান মুসাফিরের আত্মলিপি (পর্ব-৩) এ কথায় থাকে জ্ঞান, কথায় থাকে মন্দ গুণের পরিচয়। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তাহলে শুরু করা যাক।

কথায় থাকে জ্ঞান, কথায় থাকে মন্দ গুণের পরিচয়

ek nadan musafir-3 feature image

কথা বলতে দোষ নেই, অন্তত আমি এক নাদান মুসাফির তাই মনে করি। তবে যে কোনো কথায় জ্ঞান থাকতে পারে, আবার যে কোনো কথায় থাকতে পারে মন্দ গুণের পরিচয়। যে মন্দ কথা বলবেন, সেই মন্দ লিপিতে থাকবে তার জন্য অভিশাপ! যাকে মন্দ কথা বলা হচ্ছে তা হবে তার জন্য আশির্বাদ।

 

কারা বলে মন্দ কথা যারা নিজের মাঝে এক প্রকার জেলাসি বা অহমিকা অনুভব করেন। এদের ভিতরে থেকে থেকে ভজকট ধরনের কাজ বাড়তে থাকে। এরা কেনো জানি স্থির থাকতে পারেন না, কিছু ভালো কাজ করতে না পারলে! নিজের অভিধানে একটা বিষয় কাজ করে কিভাবে অন্যকে খোঁচা মারা যায়, অন্যকে বিরক্ত করা যায়। এর মাঝে পান এক প্রকার আনন্দ। অন্যকে কষ্ট দিয়ে নিজের ভিতরে হাসি আসলেও তাতে থাকে কৃতিমতা।

 

আর একটা কথা বলা বাঞ্চনীয়, কথা আছে কুয়োর ব্যাঙ নির্দিষ্ট গন্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে বা নির্দিষ্ট গন্ডিতে লাফঝাপ করে। এদের কথাবার্তা থাকে সেরকম নিজেকে বিড়াল হওয়া সত্তেও বাঘ মনে করে। অন্যকে গোনার মধ্যে ধরে না। কখনও চারিপাশে ঘুরে দেখেছেন অন্য জায়গায় আপনার  মান কেমন, আপনার সন্মান কেমন? কদিন আগে লিখেছিলাম, তারা কেমন গুণীজন!

 

যিনি ভাবুক তার ভাব নেওয়া

মানায়

যিনি ভাবুক নন তার ভাব নেওয়া

কানায়…

 

সবাই জানে তার দাম দুআনা

ওরে দাম দেয় কেনো চারআনা?

অর্বাচীন সে ভাব নেয় ছয়আনা

ওরে পাগল বাজে তানা নানা…

 

এরা সবসময় নিজের মাঝে ভাব বাড়িয়ে রাখে ভাব নেওয়ার জন্য। হায়রে ভাবুক, কেউ যদি মারে চাবুক!

 

মন্দ কথা, বাজে কথা কখনো ভালো গুণের পরিচয় হতে পারে না। এমনকি যে কথা অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করে তা কখনো ভালো গুণের পরিচয় হতে পারে না। কথা বলবেন অবশ্যই, যা বললে মানুষের চিন্তাশক্তিকে শাণিত করে, একটু হলেও ভাববার অবকাশ দেয়।

 

মন্দ কথা বলা সংক্রান্ত বিষয়ে ইসলাম ধর্মে কিছু উপদেশ দেওয়া হয়েছে যা আমরা এক নজরে দেখতে পারি-

০১. তোমরা পরস্পরের বদনাম করোনা, বিকৃত উপাধিতে ডেকোনা। (সুরা আল হুজরাত-১১)

০২. হে ঈমানদাররা! তোমাদের পুরুষদের এবং নারীরা অপর নারীদের উপহাস করোনা, কারণ তারা উত্তম হতে পারে। (সুরা আল হুজরাত-১১)

০৩. যারা নিরপরাধ মুসলিম নারী ও পুরুষের ঘাড়ে মিথ্যা অপবাদ চাপিয়ে তাদের কষ্ট দেয়, তারা আসলে নিজেদের ঘাড়েই চাপিয়ে নেয় বিরাট বহুতান ও পাপের বোঝা। (সুরা আল আহযাব ৫৮)

০৪. মানুষ মন্দ কথা বলে বেড়াক, তা আল্লাহ পছন্দ করেন না। (সুরা আন্ নেসা ১৪৮)

 

আচ্ছা একটি কথা খেয়াল করবেন, আপনি নিজে কি মন্দ কথা শুনতে পছন্দ করবেন? কেউ যদি আপনাকে মন্দ কথা বলে, তবে কি করবেন? একবার ভেবে দেখুন বিষয়টি। নিশ্চয় আপনার নিজেরও খারাপ লাগে, লাগাটাই স্বাভাবিক। সুতরাং নিজেকে দিয়ে অন্যকে যাচাই করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। তাহলে অন্তত মানুষকে বুঝতে অনেকটা সহজ হয়। কথা যখন বলবেন তখন না হয় ভালো কথা দিয়ে অন্যের কাছ থেকে সম্মান লাভ করুন।  

আসুন একটা বিষয় চিন্তা করতে পারি, একটি ভালো কথা একটি ভালো গাছের মতো-

A Goodly word like a goodly tree, whose root is firmaly fixed and branches (reach) to sky . It brings forth its fruit at all times ” ( al Quraan : 14:24- 35)

”একটি ভালো কথা একটি ভালো গাছের মতো, মাটিতে যার বদ্ধমূল শিকড়, আকাশে যার বিস্তৃত শাখা, সব সময় সে দিয়ে যার ফল আর ফল।” (আল কুরআন ১৪: ২৪-২৫)

 

কথা আছে ব্যবহারে পাওয়া যায় মানুষের বংশ পরিচয়। পাবিলিক প্লেসে গেলে দেখবেন এরকম কথা লিখা রয়েছে। মানুষের সহিত ভালো ব্যবহার করলে কোনো ক্ষতি নেই। বরং তাতে করে সাধারন মানুষের মাঝে আপনার সুনাম বাড়তে থাকে। কেউ যদি আপনাকে  হেয় করার জন্য কথা বলে তাহলে তাতক্ষণিভাবে তাকে ignore করুন। এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী পদ্ধতি। সেই সময়ে তাকে উত্তর না দেওয়া বুদ্ধিমানের। উত্তর দিতে গেলে সে আস্কারা পাবে এবং পরবর্তীতে একই ধরনের কাজ করার চিন্তা করবে। বরং যথাসময়ে তাকে জ্ঞানের সহিত জবাব দিন। কেউ যদি নেতার কাছে ভালো সাজার জন্য কিংবা বসের কাছে পয়েন্ট নেওয়ার জন্য কথা বলে তাকে মোকাবেলা করুন সময়ের অপেক্ষায়। তাতে করে সবুরে মেওয়া ফলে।

 

জ্ঞানীরা জ্ঞানের কথা বলেন, তাদের কথায় থাকে জ্ঞান। তবে আমরা সাধারন মানুষেরা ইচ্ছে করলে ভালো কথা বলতে পারি এবং যে কোনো মানুষের সহিত ভালোভাবে কথা বলতে পারি। ভালো কথা বলতে কোনো টাকা-পয়সা লাগে না। এমনিতেই ভালো কথা বলার দক্ষতা অর্জন করা যায়। এতে করে নিজেদের স্বাস্থ্য কম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

 

আবারও বলি, কথা বলতে কোনো দোষ নেই, যদি না তা মন্দ কথা হয়। রবি ঠাকুর যদি এতো কথা লিখতে পারেন, লালন যদি এতো কথা গাইতে পারেন তাহলে আপনি কেনো কথা কইতে পারবেন না। তবে আক্কেল বজায় রেখে কথা বললে তাতে করে শব্দ দূষণের ঝু্ঁকি কম থাকে, কী বলেন সুধীবৃন্দ!

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>