Learn for Self – Easy Computing (পর্ব-১)


Learn for Self – Easy Computing (পর্ব-১)

Learn for Self অর্থাৎ নিজের জন্য শেখা এবং সহজে কম্পিউটিং এই ‍ধারনা থেকে ধারাবাহিকভাবে কম্পিউটার সম্পর্কে কিছু বিষয় উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে আমার এই ক্ষুদ্রতম প্রয়াস যা সিন্ধুর মাঝে এক কণা বিন্দু মাত্র। আজকের শিরোনাম হচ্ছে  Learn for Self – Easy Computing (পর্ব-১)। এতে থাকবে বেসিক কম্পিউটার সম্পর্কে।

কম্পিউটার বেসিক – শুরুর কথা

আমরা বসবাস করছি ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে। আজকে ঘরে বসেই আমরা Google এর মাধ্যমে যেকোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে ও শিখতে পারছি ঠিক এমনি মুহূর্তে আপনাদের মাঝে আমার আগমন নিছক বাতুলতা মাত্র। তবুও এক্ষেত্রে আমার লেখা আপনাদের নিকট সহায়ক হিসেবে কাজে আসে তাহলেই আমার স্বার্থকতা। আসুন এর মাঝে শুরুর কিছু বিষয় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

 

কম্পিউটার কি

কম্পিউট (Compute) শব্দ থেকে কম্পিউটার (Computer) শব্দটি এসেছে। এই শব্দের আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় গণনা বা হিসাবকারী যন্ত্র। তবে এটি শুধু গণনাকারী যন্ত্র নয়, এর দ্বারা যুক্তি ও সিদ্ধান্তমূলক কাজ করা যায়। কম্পিউটার একটি ডিজিটাল ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা একজন ইউজার বা ব্যবহারকারীর মাধ্যমে ডেটা ইনপুট বা গ্রহণ করে এবং প্রদত্ত ডেটার উপর ভিত্তি করে তথ্যের প্রক্রিয়াকরণ করে থাকে। কম্পিউটার মূলত প্রাপ্ত নির্দেশে দ্রুততার সহিত নির্ভুলভাবে তথ্য গ্রহণ (Data Input), তথ্য সংরক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং তথ্য উপস্থাপন (Data Output) করতে সক্ষম।

কম্পিউটারের ইতিহাস

তবে কম্পিউটারের শুরুটা আজকের মতো এতোটা ব্যবহার বান্ধব ছিল না। চার্লস ব্যাবেজকে (২৬ শে ডিসেম্বর ১৭৯১ – ১৮ ই অক্টোবর ১৮৭১) বলা হয় ‘কম্পিউটারের জনক’।  তিনি ডিফারেন্স ইঞ্জিন ও অ্যানালাইটিকাল ইঞ্জিন নামের দুইটি যান্ত্রিক কম্পিউটার তৈরি করেন।

Deference Engine- Charles Babes

চার্লস ব্যাবেজের ডিফারেন্স ইঞ্জিন (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)

 

কম্পিউটার প্রজন্ম

কয়েকটি পর্যায়ে কম্পিউটারে বিকাশ সাধিত হয় যা কম্পিউটার প্রজন্ম নামে পরিচিত।  নিম্নোক্ত পাঁচটি প্রজন্মে ভাগ করা হয়-

প্রথম প্রজন্ম (1st Generation) – কম্পিউটারের এই প্রজন্ম ১৯৪০ সাল থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ধরা হয়। এই পর্যায়ে ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করা হয়। ইউনিভাক এবং এনিয়াক এই প্রজন্মের কম্পিউটার। ১৯৫১ সালে আমেরিকায় ১ম ব্যবসায়িক কম্পিউটার এনিয়াক ব্যবহার হয়।

দ্বিতীয় প্রজন্ম (2nd Generation) – ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত এই প্রজন্ম গণ্য করা হয়। এতে কম্পিউটারে ভ্যাকুয়াম টিউবের পরিবর্তে ট্রানজিসস্টর ব্যবহৃত হওয়ায় কম্পিউটারের আকৃতি কমে আসে এবং অপেক্ষাকৃত তা দ্রুত গতি সম্পন্ন হয়।

তৃতীয় প্রজন্ম (3rd Generation) – এই প্রজন্ম ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ধরা হয়। এতে কম্পিউটারে IC Integrated Circuit আসে যা একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। এতে সিলিকন চিপস ট্রানজিসস্টর জায়গা দখল করে। এই প্রথম কম্পিউটারে কীবোর্ড এবং আউটপুট হিসেবে মনিটরের ব্যবহার শুরু হয়।

চতুর্থ প্রজন্ম (4th Generation) – ১৯৭২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এই প্রজন্ম। এতে কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয় মাইক্রো প্রসেসর। সাধারন ব্যবহারকারীদের জন্য আইবিএম নামক প্রতিষ্ঠান বাজারে কম্পিউটার ছাড়ে।

পঞ্চম প্রজন্ম (5th Generation) – ২০১০ সাল থেকে এই প্রজন্ম শুরু হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই প্রজন্মের মূল ভিত্তি যা মানুষের কথা বুঝতে সক্ষম। আর সেভাবেই কম্পিউটারের বিকাশ সাধিত হচ্ছে।

 

 

কম্পিউটারের কাজ করার বৈশিষ্ট্য

কম্পিউটার একটি প্রোগ্রামযোগ্য (Programmable) যন্ত্র। কম্পিউটার কেবল গণনার কাজে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সকল তথ্য উপাত্তকে প্রক্রিয়াকরণ করে থাকে। এর কাজ করা বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপঃ

  • দ্রুত গতিতে কাজ করা
  • নির্ভুলভাবে কাজ করা
  • স্মৃতিতে জমা রেখে কাজ করা

 

কম্পিউটারের প্রকারভেদ

পদ্ধতিগতভাবে কম্পিউটার তিন ধরণের। যেমন- ক. এনালগ কম্পিউটার, খ. ডিজিটাল কম্পিউটার ও গ. মাইক্রো কম্পিউটার। এখানে আমরা মূলত মাইক্রো কম্পিউটার নিয়ে আলোচনা করবো।  

 

 

কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে

আজকের বিশ্বে কম্পিউটার জ্ঞান একটি অপরিহার্য বিষয়। মূলতঃ কম্পিউটার দুটি জিনিষের সমন্বয়ে কাজ করতে সক্ষম হয়। একটি হচ্ছে হার্ডওয়ার এবং আরেকটি হচ্ছে সফট্ওয়্যার।

 

কম্পিউটারের ব্যবহার

কি কি ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। কম্পিউটারের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়, যেমন-

 

অফিস ব্যবস্থাপনায় (In Office Management)– বর্তমানে অফিস ব্যবস্থাপনায় কম্পিউটারের ভূমিকা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। পে-রোল ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ একাউন্টিং, কমার্শিয়াল, মার্চেন্ডাইজিং, অডিট ডিপার্টমেন্টে কম্পিউটারের ব্যবহার উল্লেখ করার মতো।

শিল্প ক্ষেত্রে (In Industry Sector)– শিল্প ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ভূমিকা বেড়ে চলেছে। ডিজাইন তৈরিসহ, সেই ডিজাইন অনুযায়ী প্রোডাক্ট বা পণ্য তৈরি হচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

 

মুদ্রণ শিল্পে (In Printing Industry) – মুদ্রণ শিল্পে কম্পিউটার যুগান্তকারী অবদান রেখেছে।

 

যোগাযোগ ব্যবস্থায় (In Communications) – যোগাযোগ ব্যবস্থায় কম্পিউটার অভাবনীয় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। যেমন দ্রুত সংবাদ প্রেরণ করা যাচ্ছে।

 

চিকিৎসা ক্ষেত্রে (In Medical Sector) – চিকিৎসা ক্ষেত্রে কম্পিউটার যুগান্তকারী প্রভাব বিস্তার করেছে। যেমন তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থায় বেশ সাফল্য এনে দিয়েছে।

 

গবেষণায় (In Research) – আজকাল গবেষনায় কম্পিউটারের ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী। বিভিন্ন ধরনের গবেষনায় এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

 

ব্যাংকিং ক্ষেত্রে (In Banking) – ব্যাংকিং ক্ষেত্রে বিশেষ করে অনলাইন ব্যাংকিং এ কম্পিউটারের ব্যবহার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে গ্রাহকদের ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হয়েছে।

 

আদালতে (In Court) – আদালতে কম্পিউটার ব্যবহার করে তড়িৎ সিদ্ধান্ত প্রদান করা সম্ভব।

 

সামরিক ক্ষেত্রে (In Defense Sector) – সামরিক ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। যেমন বোমারু বিমান, যুদ্ধ জাহাজ, মিসাইল, ক্ষেপনাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

 

অর্থবাজারে (In Billing System) – খুব সহজে কম্পিউটার ব্যবহার করে দ্রুত বিল তৈরি ও মনিটর করা যাচ্ছে।

 

কৃষি ক্ষেত্রে (In Agriculture Sector) – কৃষি ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার করে সাফল্য লাভ করা সম্ভব।

 

সংস্কৃতি ও বিনোদনে (In Cultural and Recreation) – সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতে কম্পিউটার ব্যবহার সম্প্রসারিত হয়েছে।

 

তথ্য পরিসংখ্যানে (In Information Statics) – তথ্য পরিসংখ্যানে কম্পিউটারের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যেমন বর্তমানে পরিসংখ্যান ব্যুরো তাদের সংগৃহীকৃত উপাত্তসমূহ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশ্লেষণসহ উপাত্তভিত্তি বা ডাটাবেজ তৈরির সকল পর্যায়ে কম্পিউটার ব্যবহার করছে।

 

ডিজাইনে (In Design) – কম্পিউটার ব্যবহার করে অনেক দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষনীয় ডিজাইন করা যায়।

 

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে (In Weather Forecast) – কম্পিউটারের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস জানা যায়।

 

বলা যায়, সবক্ষেত্রেই কম্পিউটারের ব্যবহার লক্ষ্যনীয়। এবং এর ব্যবহার প্রতিদিনই সম্প্রসারিত হচ্ছে।

 

পরবর্তী সিরিজে আমরা কম্পিউটার হার্ডওয়্যার নিয়ে আলোচনা করবো। আজকে তাহলে এ পর্যন্ত।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>