এক নাদান মুসাফিরের আত্মলিপি (পর্ব-২) 1


এক নাদান মুসাফিরের আত্মলিপি (পর্ব-২)

আজকের আলোচনার বিষয় এক নাদান মুসাফিরের আত্মলিপি (পর্ব-২) ‘পজেটিভ বা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী’  শিরোনামে।

কৃতজ্ঞতা এবং আত্ম সমালোচনা

আবারো বলছি, আমি নই কোনো লেখক এবং ভাষা জ্ঞান একেবারে সীমিত। Ones upon a time কিছুটা চর্চা ছিল। সঙ্গত কারণে আমার ফিরে আসা এবং ফিরে আসার মাঝে আত্ম উপলব্ধি থেকে আমার মনের একান্ত কথাগুলো টুকরো টুকরো ভাবনায় তুলে ধরা। মানুষ হিসেবে আমারও কিছু ভুল-ভ্রান্তি থাকতেই পারে এবং তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানে মনোনিবেশ করা। বস্তুত আমি নিজেকে একজন সাধারন কাতারের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। তা বিবেচনা সাপেক্ষে “এক নাদান মুসাফিরের আত্মলিপি পর্ব-১” লিখেছিলাম। ভাবিনি কিছু মানুষ এটাকে আসলেই লেখা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে খাটো করতে চাই না। তবে একজনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় আর তিনি হচ্ছেন আমাদের অডিট ডিপার্টমেন্টের কাজী রেজওয়ানুল হক এর কথা। আমার লেখার একটা বিষয় সম্পর্কে বলেছিলেন। কয়েকজন আবারো লেখা শুরুর জন্যে ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে নিজেকে অনুশীলনের সুযোগ পেলাম। – সাদ আব্দুল ওয়ালী

পজেটিভ বা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

এক নাদান মুসাফির কি আর বলতে পারে! আমার কি সেই যোগ্যতা রয়েছে। আর এজন্যে আমি নতুনভাবে পজেটিভ বা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির আশ্রয় নিয়েছি। আজকের আলোচনার বিষয় পজেটিভ বা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি (পর্ব-২) । আমাদের অনেকের মাঝে নেগেটিভ বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বিরাজ করছে। যেমন অন্যকে Under Estimate (খাটো করে দেখা) করা, অন্যের অনুপস্থিতিতে তার সমালোচনা করা, সুযোগ পেলেই অন্যকে অপদস্ত করা, ইচ্ছে করেই অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করা, ইচ্ছে করেই অন্যকে হেনস্থা করা, অযথা কারো উপর বেশি চাপ প্রয়োগ করা ইত্যাদি। একটু সচেতনভাবে উপলব্ধি করলে এরকম আরো নেগেটিভ কাজ খুঁজে পাওয়া যাবে প্রচুর।

 

ইদানিং স্টাডি করার একটা বাতিক দেখা দিয়েছে। বিখ্যাত ব্যক্তিগণ কি করেছিলেন এবং কি ভেবেছিলেন কিছুটা এমন। তাই বিশ্লেষণ করার ঘোড়ারোগ আমার! সবচেয়ে অবাক বিষয় হচ্ছে নেগেটিভ দৃষ্টিভঙ্গির ফলে নিজেকে বেশি করে ক্ষতিগ্রস্তের মাঝে সামিল করার নামান্তর এটা আমরা কখনো সেভাবে ভেবে দেখি না। এখন তো আমার নিজেকে বেশি লজ্জিত মনে হচ্ছে হয়তো এমনটা অনেক ভেবেছিলাম অনেক সময়।

 

ছোট বা বড় সবারই উচিত অন্যকে সম্মান করা। ছোটরা কেউ সম্মান করলে তা সাদরে গ্রহণ করা, সেই সঙ্গে বড়দের সম্মান করা পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করা। জুনিয়ররা সিনিয়রদের সম্মান করবে তেমনি মাঝে মাঝে সিনিয়রগণ জুনিয়রদের সালাম ও কুশলাদি বিনিময় করতে পারেন একে অপরের প্রতি। বিনা কারণ ছাড়া অন্যের পিছনে লাগা এবং অন্যকে ক্রমাগতভাবে হয়রানি করার মানসিকতা এক ধরনের হীনমন্যতার প্রকাশ। এটাকে নেগেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিবেচনা করা যায়। আমরা একটু হলেও পজেটিভ হতে পারি। এর মাঝে সবার কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

 

আবার কেউ যদি নিজের আত্ম-উপলব্ধি থেকে ভুল বুঝতে পেরে তা মীমাংসার জন্যে সুযোগ চান তাকে সে সুযোগ তৈরি করে দেওয়া উচিত। অবশ্যই তার সুযোগ পাবার অধিকার আছে। এভাবে নতুনভাবে তার বন্ধুত্বের হাত সাদরে গ্রহণ করার মাঝে অপার আনন্দ রয়েছে। এখানে এক ধরনের পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করে থাকে।

নিজের কাজকে ভালোবাসা এবং সম্মান করা পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক। চাইলেই আপনি আপনার কাজকে ভালোবাসতে পারেন, সম্মান করতে পারেন। এতে করে আপনি কখনোই ছোট হবেন না। কম কাজ করে বেশি কথা বলার মাঝে কোনো ক্রেডিট নেই। হয়তো তা টেম্পরারি বা অস্থায়ীভাবে বসের কাছে নজরে আনতে সক্ষম কিন্তু একদিন ঠিকই বস বুঝে যাবেন আপনার মাঝে কি রহস্য লুকিয়ে আছে! তখন নিজে নিজে বলবেন, ওরে পাগলা লাভ নেই, লাভ নেই…., একটু পজেটিভ হও…

 

আমি মনোযোগ সহকারে একটি বিষয় খেয়াল করেছি। একটি ডিপার্টমেন্টে যখন একজন ব্যক্তি তার কাজ সুচারুভাবে ও দায়িত্ববান হিসেবে পালন করছেন কিংবা নিদ্ধিধায় পালন করছেন। তখন অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের ব্যক্তিগণ তাকেই অনেক বেশি খুঁজে থাকেন। ফলে তার উপর চাপ বেশি পড়ছে অন্যের উপর ততোটা নয়। এই বিষয়টা প্রতিষ্ঠানের ভেবে দেখার দরকার। ফলে প্রতিষ্ঠানের মাঝে পজেটিভ ‍দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। কেউ কাজ করেন কম আর কথা বলেন বেশি এমন উপস্থাপনা গুরুত্ব পেলে পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা আসে।    

আমরা সকলে একটা গল্প জানি। তা হচ্ছে কচ্ছপ ও খরগোশের গল্প। একদিন এক দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন হলো। প্রতিযোগী দুইজন এক. কচ্ছপ এবং দুই. খরগোশ। খরগোশের মাঝে Over Confidence বা খুব বেশি আত্মবিশ্বাস ছিল। এটাও এক ধরনের নেগেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে সহায়তা করে। মাঝ পথে খরগোশ বেশ আয়েশ করে জিরিয়ে নিলো। ঘুম ভাঙ্গার পরে দেখলো বেলা অনেক গড়িয়ে গিয়েছে। এবার দৌড়াতে লাগলো। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে খরগোশ পৌঁছাতে ব্যর্থ হলো। দেখতে পেলো কচ্ছপকে বিজয়ী বেশে। তার মন খারাপ হলো এবং অনেক বেশি মন খারাপ হলো। তবে খরগোশ তার ভুল বুঝতে পেরে পরাজয়কে মেনে নিল। অন্তত আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের মতো অসম্ভব জেদ করে বসলো না যে, বিজয় তার চাই, চাই-ই আর তা যেকোনো কৌশল প্রয়োগ করে। এটা খরগোশের কিছুটা হলেও পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে যা পরবর্তীতে তাকে বিজয়ী হতে সহায়তা করবে নিঃসন্দেহে।  

 

একটা প্রচারণা আমার খুব বাজে লাগে তা হচ্ছে “অসম্ভব সম্ভব করা অমুকের কাজ…” যদিও তা অবাস্তব মনে হয় কিছুটা ফানি স্টাইলও বটে! বাস্তব বিবর্জিত এমন অনেক অ্যাড বা প্রচারণা রয়েছে যা আমাদের প্রজন্মে পজেটিভ ফলাফল বয়ে আনতে সক্ষম হয় না। এটা সমাজের ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা। আরো একটি বিষয় আমার ভাবতে অবাক লাগে, আমরা টিভি বা মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে সিদ্ধহস্ত অন্তত বিরোধী পক্ষ থেকে। অথচ সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে রুখে দেওয়ার মতো যথেষ্ট মুরোদ নেই আমাদের। আমাদের ডিশ চ্যানেলে জিটিভি, স্টার-জলসার আগ্রাসনকে রুখবে কোন্ মহান ব্যক্তি? এদিকে তাকানোর এতোটুকু ফুরসত নেই মন্ত্রী মহোদয়ের! যা পেরেছে ছোট্র একটি রাষ্ট্র নেপাল আমরা মোটেই তা পারি না এই আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। এতে আফসোস করলে আরো হীনমন্যতায় ভুগতে সহায়তা করে। আমাদের প্রজন্মে কিভাবে পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে?

 

এবার সামগ্রিকভাবে আমাদের দেশের একটি পজেটিভ দিক সবার নজরে আনতে চাচ্ছি। পজেটিভ কোনোকিছু শুনতে কার না ভালো লাগে। এরকম কিছু শোনার জন্যে আমরা অধীর আগ্রহে থাকি। আমি আমাদের দেশের পজেটিভ যে দিকটি তুলে আনছি তা রাষ্ট্রীয়ভাবে ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় গড়ে ওঠেনি। বলা যায় তা ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ফসল। একটি অনেক অনেক ভালো খবর!

কি সেই খবর যা দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে-

সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া পরিবেশবান্ধব শিল্প

শীর্ষ দশে বাংলাদেশের সাত কারখানা

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করতে পারেন

http://www.prothom-alo.com/economy/article/1032633/শীর্ষ-দশে-বাংলাদেশের-সাত-কারখানা

এখানে বলা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব শিল্পকারখানা স্থাপনে বাংলাদেশে এক ধরনের নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) ‘লিড’ নামে এই সনদ প্রদান করে থাকে। তাদের জরিপে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে শীর্ষ দশ (১০) স্থান পাওয়া বিশ্বের ২৫টি পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনার মধ্যে আছে বাংলাদেশের সাতটি। সত্যিই অবাক করা একটি পজেটিভ খবর, ভীষণভাবে আনন্দিত ও আন্দোলিত হয়েছি এ খবরে।

মন ভালো নিয়ে এ পর্বের সমাপ্তি ঘটাতে পারি। তবে শেষ মানে শেষ নয়, আবার নতুন করে শুরু করা, নতুন উদ্যমে!

পজেটিভ মানে দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করা, পজেটিভ মানে সৃষ্টিশীলতাকে উৎসাহিত করা, পজেটিভ মানে নিজের আত্মীক উন্নয়নকে তরান্বিত করা এবং পজেটিভ মানে সামাজিকভাবে আমাদের সামগ্রিক উন্নয়নকে অগ্রসরতায় ধাবিত করা।

জয় হোক জনতার!


Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

One thought on “এক নাদান মুসাফিরের আত্মলিপি (পর্ব-২)