স্ট্রোকের কারণ ও স্ট্রোকের পর ৭টি ধাপে সুস্থ থাকার উপায়


স্ট্রোকের কারণ ও স্ট্রোকের পর ৭টি ধাপে সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন ধরনের রোগ সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। আপনার শরীরে বড় ধরনের কোনো রোগ হওয়ার কিংবা স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকার সম্ভাবনা থাকলে নিজেকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে ডাক্তারে পরামর্শ নিতে হবে। ই-লার্নিংবিডি.কম টীমে স্বাস্থ্য বিভাগে আজকে সংযুক্ত হয়েছেন ডাঃ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি লিখেছেন স্ট্রোকের কারণ ও স্ট্রোকের পর ৭টি ধাপে সুস্থ থাকার উপায় নিয়ে, আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক-

 

মানুষের শরীরের হৃৎপিন্ড থেকে উৎপন্ন হয় রক্তের জমাট বাধা রক্ত কণা যা মানুষের মস্তিস্কের যেকোনো ধমনীর ভিতরের পথ আটকে দিলে ধমনীর প্রবাহিত রক্ত যে অঞ্চলে প্রবাহিত হতো তা সে পথে আর প্রবাহিত হতে পারে না। ফলে যে অঞ্চলে রক্ত চলাচল বন্ধ থাকে সে অঞ্চলের মস্তিস্ক কোষ মরে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় স্ট্রোক। স্ট্রোক হওয়ার কারণ অনেক তার মধ্যে ১) বংশগত হৃৎপিন্ডের রোগ, ২) অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাদ্য খাবারের কারণে, ৩) অতিরিক্ত ধুপমান করলে, ৪) মদ বা এলকোহল জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করলে এবং ৫) উচ্চ রক্ত চাপের কারণে।

 

সাধারনতঃ আমরা দেখতে পাই হার্ট এটাকের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীর স্ট্রোক হয়ে থাকে।

 

এবার আসছি স্ট্রোকের পর ৭টি ধাপে কীভাবে মানুষকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে থাকে –

১) শারীরিক ব্যায়ামঃ নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা যা মস্তিস্ক সহ সারা শরীরের ধমনীতে যথাযথ রক্ত চলাচল করতে সহায়তা করবে। এতে করে রক্তে পরিমাণ মত অক্সিজেন সংযুক্ত হয়।

২) খাদ্যাভাসঃ চর্বিযুক্ত খাদ্য বর্জন ও শাকসবজি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা যা স্ট্রোকের কারণে বাড়তি চর্বি অপসারন ও অতিরিক্ত চর্বি জমতে না দেওয়া।

৩) মানসিক চিন্তা মুক্ত রাখাঃ মানসিক সঙ্গ দিয়ে রোগীকে যেকোনো চিন্তা থেকে মুক্ত রাখা। বেশি চিন্তা করলে রক্তের কোলেস্টোরেল বেড়ে যায়। অতএব চিন্তা মুক্ত রাখা সমীচিন।

বিখ্যাত হৃদরোগের প্রফেসর ডাঃ জন মিলারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘একেক ধরনের মানুষের স্ট্রোক একেক রকমের হয়ে থাকে এবং তা সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা সম্ভব।

৪) স্ট্রোকের পর রোগীর ফিজিও ফেরাপীঃ দরকার হলে নিয়মিত ফিজিও থেরাপী দিয়ে রোগীর বিকলাংগ অংশ ভাল করা সম্ভব।

৫) রোগীকে নিজস্ব চিন্তায় বা বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করার উদ্বুদ্ধ করাঃ রোগীকে নিজস্ব চিন্তায় বা বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করার জন্য তাকে অংশ গ্রহণ মূলক ব্যস্ততা বাড়াতে হবে যাতে রোগী বুঝতে পারে যে সে আগের মত আবার কাজ করা বা পূর্বের মত ভাল থাকতে পারবে।

৬) নিয়মিতভাবে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াঃ নিয়মিতভাবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ করতে হবে।

৭) ধুমপান বা এলকোহল পরিত্যাগ করাঃ ধুমপান বা এলকোহল জাতীয় অপখাদ্য পরিত্যাগ করতে হবে যাতে আবার এটাক করতে না পারে।

 

উপরোক্ত নিয়ম পালনের মাধ্যমে স্ট্রোকের পরবর্তী সময়ে রোগীর ভাল থাকার সম্ভাবনা নিশ্চিত করা যায়। নিম্নে একটি ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হল কীভাবে স্ট্রোক পরবর্তী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে-

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>